Home | অপরাধ | চাকরি হারাতে পারেন ডিবি পুলিশের ২৪ সদস্য

চাকরি হারাতে পারেন ডিবি পুলিশের ২৪ সদস্য

বিনা ওয়ারেন্টে ব্যবসায়ীদের তুলে এনে নির্যাতন ও পরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ২৪ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই তালিকায় ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে নিচের দিকের ২৪ জন সদস্য রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করতে ডিবির যুগ্ম কমিশনারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের হাতে নির্যাতিত ও পরে উৎকোচ দিয়ে মুক্ত ব্যবসায়ি বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ডিবি পুলিশের এই সদস্যরা বিভিন্ন সময় সিএনজি ব্যবসায়ীদের বাসা থেকে তুলে এনে মোটা অংকের টাকা আদায় করতেন। তাকেও তারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে টাকার বিনিময়ে মুক্তিপান। পরে তিনি জানতে পারেন এভাবে আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ডিবি একই কায়দায় তুলে নিয়ে উৎকোচ আদায় করেছে। তিনি তখন অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা এক যোগ হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পূর্ব পরিচিত ঢাকার মগবাজারের ওয়ার্ড কমিশনার মোক্তার হোসেনের কাছে যান।ওয়ার্ড কাউন্সিলর ভুক্তভোগীদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি শুনে পুলিশ কমিশনারকে জানান। পুলিশ কমিশনার বিষয়টি তদন্ত করতে ডিবি ডিসি আব্দুল বাতেনকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা যায়।

ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, গত ১৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসা থেকে তাকে তুলে আনে ডিবি পুলিশ। পরে গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ব্যাংকে কত টাকা আছে, কিভাবে ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন, কোত্থেকে এত টাকা আয় হয়, এসব বিষয়ে জানতে চান। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় তাকে।

এদিকে ব্যবসায়ী বিল্লালে স্ত্রী তার স্বামীকে পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিম তাকে নিয়ে গেছে। তিনি একপর্যায়ে ডিবির সহকারি কমিশনার আরাফাত লেনিনের খালাতো ভাই আমিনের স্মরণাপন্ন হন বিল্লালের স্বজনরা। প্রথমে ৫০ লাখ পরে ২০ লাখে দর নামে ডিবি কর্মকর্তাদের। এক পর্যায়ে ৮ লাখ টাকা জোগাড় করে আমিনের কাছে দিতে রাজী হন বিল্লালের স্বজনরা। আমিন ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে বিকেলে তার গাড়ি দিয়ে ডিবি কার্যালয় থেকে আসাদ গেট সংলগ্ন আড়ংয়ের সামনে নামিয়ে দেন বিল্লালকে।

বিল্লাল জানান, ডিবি কার্যালয়ে তাকে কোন শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। তবে মানষিক নির্যাতন করে টাকা দাবি করা হয়। বিল্লাল মগবাজার এলাকায় সিএনজি অটোরকিশার ব্যবসা করেন। এর আগে মগবাজারের সিএনজি ব্যবসায়ী কমল কুমার রায়কে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবির একটি টিম। পরে ২ লাখ টাকায় মুক্তি মেলে তার। এক্ষেত্রেও ওই আমিন মধ্যস্থতা করেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও মগবাজারের আরও ৫ ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। গত ৩দিন আগে কাউন্সিলর মোক্তার হোসেন মগাবাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে মন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। এসময় মগবাজারের সিএনজি ব্যবসায়ী হাজী আ. রশিদ, হাজী সুলতান উদ্দিন, হাজী বজলুর রহমান, হাজী আওলাদ হোসেন, সুভাস চন্দ্র দাস, কমল কুমার রায়, মনোজ চন্দ্র দাস, জাহাঙ্গীর হোসেন, বিল্লাল হোসেন, ফরহাদ হোসেন, আশুতোষ রায়, সুমন হোসেন, দীন ইসলাম, মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সুত্র আমাদের সময়

Comments

comments

About admin

Check Also

‘জ্বিনের বাদশা’ নাজমুলের ১০ দিন, এমপির একদিন!

অবেশেষে প্রমাণ হলো, চোরের দশদিন আর গেরস্থের একদিন।ধরা পড়ে গেলেন প্রতারক নাজমুল হুদা(২৯)। ‘জ্বিনের বাদশা’ সেজে অনেক দিন ধরেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। ‘জ্বিনের আছর আছে’ আর জ্বীন তাড়ানোর কথা বলে লোকজনকে ঘাবড়ে দিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন। এছাড়া মানুষের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ আর নানা অসাহায়ত্বের সুযোগ নিতেন তিনি। পানিপড়া, ঝাড়ফুঁক আর অপচিকিৎসার মাধ্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *