Home | অপরাধ | ‘জ্বিনের বাদশা’ নাজমুলের ১০ দিন, এমপির একদিন!

‘জ্বিনের বাদশা’ নাজমুলের ১০ দিন, এমপির একদিন!

অবেশেষে প্রমাণ হলো, চোরের দশদিন আর গেরস্থের একদিন।ধরা পড়ে গেলেন প্রতারক নাজমুল হুদা(২৯)। ‘জ্বিনের বাদশা’ সেজে অনেক দিন ধরেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। ‘জ্বিনের আছর আছে’ আর জ্বীন তাড়ানোর কথা বলে লোকজনকে ঘাবড়ে দিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন।

এছাড়া মানুষের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ আর নানা অসাহায়ত্বের সুযোগ নিতেন তিনি। পানিপড়া, ঝাড়ফুঁক আর অপচিকিৎসার মাধ্যমে সহজ সরল মানুষের পকেট খালি করাই ছিল তার কাজ।

নাজমুল হুদার নানাবিধ প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন নিজেই তাকে কৌশলে রাজশাহী মহানগরের কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদের পাশে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। রোববার সকালে কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’ নাজমুল তার ডাকে সেখানে গেলে তিনি তাকে আটক করেন। পরে দুপুর ১২ দিকে নাজমুলকে তিনি পুলিশে সোপর্দ করেন।

প্রতারক নাজমুল হুদার বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার। তিনি ওই গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে।

সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, নাজমুল হুদা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ বলে পরিচয় দিয়ে আসছিল। জ্বিন তাড়ানো, পানি পড়া দেওয়া, তেল পড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল রোগ সারানোর নাম করে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে ঠকিয়ে ও সর্বস্বান্ত করার অপকর্মে লিপ্ত।

সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন জানান, অতি সম্প্রতি এ বিষয়ে সুলতানা রাজিয়া নামে এক নারী তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন। এর পরেই তিনি তাকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন।

প্রতারণার শিকার সুলতানা রাজিয়া জানান, তার ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে আছে। তার মেয়েকে জ্বিনে ধরেছে বলে ১৪ মাস আগে থেকে নাজমুল হক প্রতারণা করে আসছিলেন।

জ্বিন তাড়ানোর নাম করে এরই মধ্যে প্রতারক নাজমুল হুদা তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মেয়ের সুস্থতার কথা ভেবে তিনি নাজমুল হুদাকে এই অর্থ দিয়েছেন। কিন্তু তার মেয়ে মোটেও সুস্থ হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তিনি সংসদ
শহরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ্ জানান, প্রতারক নাজমুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরের মধ্যেই তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

Comments

comments

About admin

Check Also

চাকরি হারাতে পারেন ডিবি পুলিশের ২৪ সদস্য

বিনা ওয়ারেন্টে ব্যবসায়ীদের তুলে এনে নির্যাতন ও পরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ২৪ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই তালিকায় ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে নিচের দিকের ২৪ জন সদস্য রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করতে ডিবির যুগ্ম কমিশনারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের হাতে নির্যাতিত ও পরে উৎকোচ দিয়ে মুক্ত ব্যবসায়ি বিল্লাল হোসেন জা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *