Home | জাতীয় | বসুন্ধরার জন্য সবচেয়ে বড় ঋণ দিচ্ছে সরকার

বসুন্ধরার জন্য সবচেয়ে বড় ঋণ দিচ্ছে সরকার

দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট ঋণের ব্যবস্থা হচ্ছে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (বিওজিসিএল) জন্য এ ঋণের আয়োজন করছে ব্যাংক এশিয়া। টাকার অঙ্কে এ ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার সঙ্গে এ সিন্ডিকেট ঋণের সহ-আয়োজক রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)।

এ ঋণে অংশগ্রহণ করতে ইতিমধ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতের ২০ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া। কারা এ ঋণে থাকছে তা চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বড় ঋণ দেওয়া হলেও টাকার অঙ্কে এটাই সবচেয়ে বড় আয়োজন। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে পরিশোধিত এলপিজি, ডিজেল, গ্যাসোলিন, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল ও সালফার উৎপাদন হবে বেসরকারি খাতের এ প্রতিষ্ঠানে। এতে মোট ব্যয় হবে ৯ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। সিন্ডিকেট ঋণের বাইরের বাকি টাকা জোগান দেবে বসুন্ধরা গ্রুপ নিজেই। ২০২২ সালের জুলাইয়ে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বিওজিসিএল। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান।

যোগাযোগ করা হলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেসরকারি খাতে প্রথমবারের মতো জ্বালানি পরিশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়নে এমন প্রকল্প জরুরি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় এ সিন্ডিকেট ঋণের আয়োজক হতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

জানা যায়, পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনকারী বেসরকারি খাতের প্রথম প্রতিষ্ঠান হবে বিওজিসিএল। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ২২০ একর জমিতে গড়ে উঠবে এটি। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু করে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। চাহিদামতো ক্রুড তেল আমদানির জন্য একটি জেটিও নির্মাণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এটি চালু হলে এ প্রকল্প থেকে দৈনিক ১৫০ মেট্রিক টন এলপিজি, ৮ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন ডিজেল, ১ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন, ২ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল ও ৯৬ মেট্রিক টন সালফার উৎপাদন হবে বলে ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে উৎপাদিত এসব পণ্য বিক্রি করবে বিওজিসিএল। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৬২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা রয়েছে, যদিও এর বিপরীতে জোগান মাত্র ২১ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, ২০২২-২৩ সালে উৎপাদনে যাওয়ার সময় দেশে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা বেড়ে হবে ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন।

ঋণের সহ-আয়োজক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল-ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি সব ব্যাংক মিলে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে। দ্রুতই কাজ এগিয়ে যাবে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

Comments

comments

About admin

Check Also

সংসদে ‘ব্যাংক লুটপাটকারীদের’ তালিকা প্রকাশের দাবি

ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। একইসঙ্গে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *